রমজানে সেহরি, ইফতার ও রাতের খাবারে নানা সুস্বাদু পদ থাকে। তবে শুধু স্বাদ নয়, শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে প্রোটিন—ওজন নিয়ন্ত্রণ, পেশি গঠন এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেবল বেশি প্রোটিন খাওয়া যথেষ্ট নয়; সঠিক সময় ও পরিমাণে খাওয়াই মূল বিষয়।
ওজন নিয়ন্ত্রণে প্রোটিন
প্রোটিন পেশি গঠনের প্রধান উপাদান। শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রোটিন হজম করতে শরীর তুলনামূলক বেশি শক্তি ব্যয় করে, ফলে ক্যালোরি পোড়ানোর হার বাড়ে। এ ছাড়া প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, যা অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়তা করে। তাই ওজন কমাতে চাইলে সুষম মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ কার্যকর হতে পারে।
সেহরিতে প্রোটিন কেন জরুরি
দিনের দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হলে সেহরিতে প্রোটিন থাকা বিশেষভাবে উপকারী। প্রোটিন রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা উদ্দীপক হরমোনের কার্যক্রম কমায়। ফলে সারাদিন অযথা ক্ষুধা লাগে না। সেহরিতে ডিম, দুধ, দই, ডাল বা ছোলা রাখতে পারেন।
ঘুমের আগে প্রোটিন গ্রহণ
রাতে একবারে অনেক প্রোটিন না খেয়ে খাবারের বিভিন্ন সময়ে ২০ থেকে ৩০ গ্রাম করে প্রোটিন ভাগ করে নেওয়া ভালো। এতে শরীর ধীরে ধীরে তা শোষণ করতে পারে। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারা ঘুমের আগে এক গ্লাস দুধ বা অল্প পরিমাণ ছানা খেতে পারেন, যা পেশি পুনর্গঠনে সহায়ক।
ব্যায়ামের পর প্রোটিন
শরীরচর্চার সময় পেশিতে সূক্ষ্ম ক্ষত তৈরি হয়। ব্যায়াম শেষের ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন গ্রহণ করলে পেশি দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়। ইফতারের পর হালকা ব্যায়াম করে এরপর প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী হতে পারে।
অতিরিক্ত প্রোটিনের ঝুঁকি
অনেকে মনে করেন বেশি প্রোটিন মানেই দ্রুত ওজন হ্রাস। বাস্তবে অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ইফতারে অনেক সময় একসঙ্গে বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রোটিন কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রয়োজন বুঝে, পরিমিত প্রোটিন গ্রহণই নিরাপদ উপায়।
সব মিলিয়ে, রোজায় সুস্থ ও ফিট থাকতে প্রোটিন প্রয়োজনীয় হলেও তা হতে হবে সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে। সচেতন খাদ্যাভ্যাসই পারে রমজান মাসে আপনাকে সতেজ ও কর্মক্ষম রাখতে।


